আন্তর্জাতিক ডেস্ক : গ্রিসের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনার দ্বিতীয় বার্ষিকীতে ন্যায়বিচারের দাবিতে লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছে। শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ধর্মঘটকারীরা শহর ও নগরগুলোতে সমাবেশ করেছে এবং সব ধরণের যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। সেই সঙ্গে বন্ধ করা হয়েছে নৌ, ট্রেন ও আকাশ যোগাযোগ।
২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্য গ্রিসের টেম্পি গিরিখাতের কাছে শিক্ষার্থীদের বহনকারী একটি যাত্রীবাহী ট্রেনের সঙ্গে মালবাহী ট্রেনের সংঘর্ষে ৫৭ জন নিহত হন।
সিএনএন জানিয়েছে, দুই বছর পরও দুর্ঘটনার কারণে নিরাপত্তার যে ঘাটতি তৈরি হয়েছিল, তা পূরণ হয়নি বলে গতকাল বৃহস্পতিবার এক তদন্তে উঠে এসেছে। একটি পৃথক বিচার বিভাগীয় তদন্ত এখনো অসমাপ্ত রয়ে গেছে এবং দুর্ঘটনায় কাউকে দোষীও সাব্যস্ত করা হয়নি।
পার্লামেন্ট ভবনের পাশে আগুন জ্বালায় বিক্ষোভকারীরা। ছবি: সংগৃহীত
দুর্ঘটনায় হতাহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার, নাবিক, ট্রেনচালক, ডাক্তার, আইনজীবী এবং শিক্ষকদ থেকে শুরু করে বিভিন্ন পেশার লোকেরা ২৪ ঘণ্টার সাধারণ ধর্মঘটে যোগ দেওয়ায় সমস্ত আন্তর্জাতিক এবং অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটও স্থগিত করা হয়। সেই সঙ্গে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল এবং থিয়েটারগুলো তাদের অনুষ্ঠান বাতিল করে।
আজ ভোরের দিকে হাজার হাজার লোক এথেন্সের কেন্দ্রস্থলে সিনটাগমা স্কয়ারে জড়ো হয়। তারা পার্লামেন্ট ভবনের পাশে আগুন জ্বালায়। তাদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘খুনিদের সরকার’।
প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিতসোটাকিসের মধ্য-ডানপন্থী সরকার ২০২৩ সালে দুর্ঘটনার পরে পুনরায় নির্বাচনে জয়লাভ করেছিল। রাজনৈতিক দায়বদ্ধতার বিষয়ে সংসদীয় তদন্ত শুরু করতে ব্যর্থতার জন্য বারবার সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছে তার সরকার। যদিও সরকার এসব অস্বীকার করেছে এবং বলেছে, দুর্ঘটনার তদন্ত বিচার বিভাগের উপর নির্ভর করে।
শুক্রবারের বিক্ষোভ মূলত গ্রিসের ট্রেন বিপর্যয়ের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান ক্ষোভের প্রতিফলন। ২০০৯-২০১৮ সালের ঋণ সংকটের পরে সরকারের প্রতি অবিশ্বাস সেখানে সাধারণ একটি বিষয়। অর্থাভাবে লাখ লাখ লোক মজুরি ও পেনশন থেকে বঞ্চিত। সরকারি পরিষেবাগুলোও স্বল্প তহবিলের কারণে বেশ ভুগেছে।
‘সরকার কিছুই করেনি’
এথেন্সের সমাবেশে সংগীতশিল্পী ক্রিস্টোস মেইন (৫৭) বলছিলেন, সরকার ন্যায়বিচার পাওয়ার জন্য কিছুই করেনি। এটা দুর্ঘটনা নয়, হত্যাকাণ্ড।
ইভি নামের আরেক বিক্ষোভকারী বলেন, নিহতদের জন্য শোক জানানোর পাশাপাশি সরকার বিষয়গুলো ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে এখানে এসেছি।
এ দিন গ্রিসের সংসদ ভবনের সামনের মাটিতে লাল রঙে লেখা ছিল নিহতদের নাম। এথেন্সের শহরতলোতে সমস্ত বয়সের লোকেরা ‘আমাদের কোনো অক্সিজেন নেই’ লেখা প্ল্যাকার্ড নিয়ে র্যালি করে। এ সময় শিক্ষার্থীদের শোকের প্রতীক কালো পোশাক পরে ক্লাস করতে দেখা যায়। অন্যরা কালো বেলুন উঁচিয়ে শোক প্রকাশ করে।