1. [email protected] : Masumasian :
  2. [email protected] : Masum Talukdar : Masum Talukdar
বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৫, ১০:১২ অপরাহ্ন

নতুন ছাত্র সংগঠনের আত্মপ্রকাশের সময় কী নিয়ে মারামারি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট এর সময় : বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৫
  • ১ বার পঠিত হয়েছে
নতুন ছাত্র সংগঠনের আত্মপ্রকাশের সময় কী নিয়ে মারামারি

নিউজ ডেস্ক : বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়কদের উদ্যোগে গঠিত নতুন ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এ কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি স্লোগান, বিক্ষোভ, হাতাহাতি এবং পরে অন্তত দুই দফা মারামারির ঘটনাও ঘটেছে।

বুধবার ( ২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করে নতুন ছাত্র সংগঠনের কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটিতে পদ নিয়ে দুই পক্ষের মারামারিতে মিশু আলি (২৪) ও আকিব আল হাসান (২৩) নামে দুই শিক্ষার্থীরা আহত হয়েছেন।

বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থী ও নতুন সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন সংগঠনের শীর্ষ পদ নিয়ে বিরোধের কারণে এ ঘটনা ঘটেছে।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নতুন ছাত্রসংগঠনের কমিটিতে তাদের ‘সঠিক প্রতিনিধিত্ব’ চান। তারা বলছিলেন, কমিটিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা সাবেক সমন্বয়ক রিফাত রশীদকে আরও গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়ার দাবি করছিলেন। রিফাত রশীদকে নতুন ছাত্রসংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব করা হয়েছে।

বিকেল তিনটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনে সংবাদ সম্মেলন করে নতুন ছাত্রসংগঠনের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা কমিটি ঘোষণার কথা ছিল। এই কর্মসূচির সংবাদ সংগ্রহ করতে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা যথাসময়ে ক্যানটিনের সামনে এসে অপেক্ষা করছিলেন। মধুর ক্যানটিনের সামনে সংবাদ সম্মেলনের জন্য চেয়ার-টেবিলও আগেই পাতা হয়েছিল। কিন্তু নতুন ছাত্রসংগঠনের মূল উদ্যোক্তারা নির্ধারিত সময়ে সেখানে যাননি। তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ভবনে অবস্থান করছিলেন৷

এমন পরিস্থিতির মধ্যে বিকেল চারটার কিছু পরে মধুর ক্যানটিনের সামনে যান বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী। তারা ‘উত্তরাতে বৈষম্য, চলবে না চলবে না’, ‘আমার সোনার বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই’, ‘আমাদের অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘ঢাবির সিন্ডিকেট, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’ প্রভৃতি স্লোগান দিতে থাকেন।

তারা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক রিফাত রশীদের পক্ষেও স্লোগান দেন—‘রিফাত রশীদ ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’, ‘রিফাত রশীদ এগিয়ে চলো, আমরা আছি তোমার সাথে’৷

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া তরিকুল ইসলাম নাহিদ নিজেকে ইউনিভার্সিটি অব ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড সায়েন্সেসের (ইউআইটিএস) শিক্ষার্থী বলে উল্লেখ করে প্রথম আলোকে বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকলেও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যথাযথ মূল্যায়ন হচ্ছে না। নতুন ছাত্রসংগঠনেও একধরনের পাবলিকীকরণ করা হচ্ছে । আমরা এই কমিটিতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঠিক প্রতিনিধিত্ব চাই৷’ তিনি বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয়ক রিফাত রশীদকে কমিটি থেকে মাইনাস (বাদ) করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। আমরা সেটারও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

আধঘণ্টা স্লোগান দেওয়ার পর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মধুর ক্যানটিনের সামনে থেকে চলে যান। তারা চলে যাওয়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশটি ক্যানটিনের সামনে ‘শিক্ষা ঐক্য, মুক্তি মুক্তি’, ‘গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ, জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ’ বলে স্লোগান দেন। তারা সংবাদ সম্মেলন শুরু করার প্রস্তুতি নিলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটে আবারও সেখানে ফিরে আসেন। তারা ‘প্রাইভেট ছাড়া কমিটি, মানি না মানব না’ বলে স্লোগান দিতে দিতে আসেন। ক্যানটিনের সামনে গিয়ে তারা ‘ঢাবির সিন্ডিকেট, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’ বলে স্লোগান দেন।

মধুর ক্যানটিনের সামনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থীর সঙ্গে মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে সেখানে ধস্তাধস্তি হয়। পরে পাঁচটার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশটি মধুর ক্যানটিনের ভেতরে ঢুকে যায়। ক্যানটিনের ভেতরে গিয়ে তারা কিছুক্ষণ স্লোগান দেয়। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও ক্যানটিনের ভেতরে ঢুকে পড়ে নানা স্লোগান দেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও পাল্টা স্লোগান দেন।

এমন উত্তেজনার মধ্যেই মধুর ক্যানটিনে সাংবাদিকদের সামনে গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কমিটি ঘোষণা করা হয়।

সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে আবু বাকের মজুমদার, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক পদে তৌহিদ মোহাম্মদ সিয়াম, সদস্যসচিব পদে জাহিদ আহসান, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব পদে রিফাত রশীদ, মুখ্য সংগঠক হিসেবে তাহমিদ আল মুদাসসির চৌধুরী ও মুখপাত্র পদে আশরেফা খাতুনের নাম ঘোষণা করা হয়।

নতুন ছাত্রসংগঠনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা কমিটির আহ্বায়ক পদে আব্দুল কাদের, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক পদে লিমন মাহমুদ হাসান, সদস্যসচিব পদে মহির আলম, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব পদে আল আমিন সরকার, মুখ্য সংগঠক পদে হাসিব আল ইসলাম ও মুখপাত্র পদে রাফিয়া রেহনুমা হৃদিকে মনোনীত করা হয়।

কমিটি ঘোষণার পর বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে মধুর ক্যানটিনের পশ্চিম পাশের ফটক দিয়ে মিছিল বের করেন নতুন কমিটির পক্ষের নেতা-কর্মীরা। তারা ‘গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ, জিন্দাবাদ, জিন্দাবাদ’ বলে স্লোগান দিচ্ছিলেন। মিছিলটি আইবিএর (ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউট) সামনের সড়ক দিয়ে অগ্রসর হয়।

এ সময় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মধুর ক্যানটিনের সামনে সাংবাদিকদের বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট করে প্রাইভেটকে মাইনাস করে দিচ্ছে।’ তাঁরা সেখানে ‘ঢাবির সিন্ডিকেট, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’ বলে স্লোগানও দেন।

কমিটির পক্ষের নেতা-কর্মীদের মিছিলটি সামনে অগ্রসর হলে মল চত্বর এলাকায় প্রথম দফায় দুই পক্ষের মারামারি হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে মধুর ক্যানটিনের দিকে ধাওয়া দেন। মারামারির পর ক্যাম্পাসে উত্তেজনা তৈরি হয়।

সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারের সামনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থীর সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আরেক দফা মারামারি হয়। এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে মারামারি থামানোর চেষ্টা করতে দেখা যায়। নতুন সংগঠনের কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সন্ধ্যা ছয়টার দিকেও ক্যাম্পাসে উত্তেজনা চলছিল।

রাত আটটায় এ প্রতিবেদন লেখার সময় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মধুর ক্যানটিন অথবা গ্রন্থাগার এলাকায় দুই পক্ষের কেউ নেই। পরিস্থিতি শান্ত। ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা চলছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখপাত্র উমামা ফাতেমা লিখেছেন, ‘পুরান রাজনৈতিক বন্দোবস্ত…। ঢাবির পক্ষে আর রাজনৈতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্তর থেকে উত্তরণ সম্ভব হলো না। ঢাবির ঐতিহাসিক পরাজয়।’

দয়া করে পোস্টটি আপনার স্যোসাল মিডিয়া শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2019 LatestNews
Theme Customized BY LatestNews