স্পোর্টস ডেস্ক : চ্যাম্পিয়নস ট্রফি খেলতে যাওয়ার আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল বড় গলায় দেশের মানুষদের জানিয়ে গিয়েছিল ফাইনাল খেলার জন্যই এ সফর। এতো বড় কথা বলে বাংলাদেশ সবার আগে বিদায় নিয়েছে। কথা আর কাজের দূরত্ব দেখলে ছি ছি পড়ে যায়। দেশের মানুষের জন্য তামাশা করে ক্রিকেট বোর্ড।
ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, নিউজিল্যান্ড, অন্য গ্রুপে অস্ট্রেলিয়া, আফগানিস্তান, ইংল্যান্ড, দক্ষিন আফ্রিকা। ৮ দেশের লড়াইয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ঢাকা ছাড়ার আগে জানিয়ে গেল ফাইনাল খেলবে, মানে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য খেলবে। সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন ছিল বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হবে এটা কোচ আপনি বিশ্বাস করেন কিনা। সেই জবাবে কোচ ফিল সিমন্স বলেছিলেন বিশ্বাস না করলে এই চেয়ারে থাকতাম না।’ কোচের কথায় পরিষ্কার, বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্যই খেলতে গেছে। কোচের সঙ্গে কথার মিল অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর, সংবাদ সম্মেলনে যেন সুরকারের সুর করা গান কণ্ঠে তুললেন এবার ফাইনাল খেলার জন্যই তারা চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
কোচ এবং অধিনায়কের যুগলবন্দী বক্তব্য দেশের কোটি কোটি ক্রিকেট অনুরাগীদের মধ্যে স্বপ্ন বুনে দেয়। ক্রিকেট প্রিয়দের মনে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়, যখন অধিনায়ক শান্ত বলেন, ‘গতবার সেমিফাইনাল খেলেছে।’ বাকি কথা এমনিতেই বুঝা যায় গতবার সেমিফাইনাল খেললে এবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্যই যাবে। কথা আর কাজ কোথায় গিয়ে দাঁড়ালো তা বুঝা গেল না। গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশ প্রথম খেলায় ভারত আর দ্বিতীয় খেলায় নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হেরে এখন পাকিস্তানের বিপক্ষে নিয়ম রক্ষার ম্যাচ খেলার অপেক্ষায় রয়েছে। রাওয়ালপিন্ডিতে ঘুরে বেড়ানোর জায়গা আছে। ক্রিকেটাররা অনায়াসে ঘুরে বেড়াতে পারেন। দেশের মানুষ এখন সেদিকে তাকিয়ে নেই।
চ্যাম্পিয়নস ট্রফি নিয়ে বাংলাদেশের আগ্রহ নেই। অধিনায়ক আর কোচের এতো বড় বড় কথা শুনে মানুষের বুঝা হয়ে গেছে। বোলিং ভালো নেই, ব্যাটিং ভালো নেই, ফিল্ডিং ভালো নেই। অধিনায়ক শান্ত এখনও বুঝানোর চেষ্টা করছেন সমষ্টিগতভাবে সবাই ভালো করলে রেজাল্ট ভালো হবে। এই কথাটা একজন শিশুও বুঝতে পারেন। এটি পুরোনো কথা। খালেদ মাসুদ পাইলট, খালেদ মাহমুদ সুজন, আকরাম খান, হাবিবুর রহমান সুমনরাও একই কথা বলেছিলেন। তারা বলতেন আমরা এখনও শিখছি। সঙ্গে দল নিয়ে আরও একটা কথা যোগ করতেন-যদি এটা হয়, যদি ওটা হয়, তাহলে আমরা জিতব।’
এখনও পুরোন ঢোল বাজিয়ে যাচ্ছেন শান্তরা। ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং কোনোটাই ভালো হয়নি। সিনিয়র ক্রিকেটাররা নিজেদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারেননি। উপমহাদেশের সাবেক ক্রিকেটাররা দেখেছেন কিভাবে বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা লেজেগোবরে মাখিয়ে ফেলেছে। তারপরও রাওয়ালপিন্ডিতে বসে অধিনায়ক শান্তর উচ্চকণ্ঠ। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হেরে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন উঠল চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে। শান্ত বলেছেন, ‘জি না, আমার কাছে এরকম মনে হয় না। দলে যতজন খেলোয়াড় আছেন, সবাই এই স্বপ্ন নিয়েই আসছিলেন (ট্রফি জেতার)। আমার মনে হয়, বড় স্বপ্ন যদি নাই দেখি তাহলে এত বড় টুর্নামেন্টে কীভাবে খেলব।’
বেশ দম্ভ নিয়েই শান্ত বললেন, ‘এখানে তো প্রতিযোগিতা করতে আসিনি, জিততে এসেছি। হ্যাঁ ফলটা আমাদের পক্ষে হয়নি। কিন্তু আমরা দলে যারা আছি সবসময় সকলে স্বপ্নটা বড় দেখতেই পছন্দ করি। আর স্বপ্ন দেখলেই হবে না, ঐ অনুযায়ী কাজ করতে হবে।’
তাহলে কাজ না করে আগেই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন কেন। শান্ত বলেন, ‘এই টুর্নামেন্টে হয়নি, এখন আরেকটি ম্যাচ রয়েছে। সেই ম্যাচে কীভাবে ভালো করতে পারি, সেদিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত।’
মাঠের খেলাটা যদি মুখে উঠে যায় তাহলে খেলা আর খেলা থাকে না। বাংলাদেশের ক্রিকেট কোচ অধিনায়ক, খেলোয়াড়দের অবস্থাটা যেন এমনই হয়েছে। ক্রিকেট বোর্ডের হাজার কোটি টাকা, আর জাতীয় দল সামান্য কাজটুকু করতে পারছে না। বিদেশিরা বলছেন লম্বা পরিকল্পনা দরকার। সেটাই হচ্ছে না বাংলাদেশের ক্রিকেটে। পরিকল্পনা না থাকলে হাজার কোটি টাকা ফান্ডে পড়ে থেকে কী লাভ যদি এভাবে চলতে থাকে। প্রতিবার হারের পর নানা অজুহাত তুলে ধরে জাতীয় ক্রিকেট দল। তাহলে ট্যুরে যাওয়ার আগে এতো দম্ভ কিসের।