আন্তর্জাতিক ডেস্ক : গাজার উত্তরাঞ্চলে ইসরাইলি বাহিনীর বোমা হামলায় আরও একটি পরিত্যক্ত আবাসিক কমপ্লেক্স ধ্বংস হয়েছে বলে জানিয়েছে উপত্যকার সিভিল ডিফেন্স এজেন্সি।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গাজা সিটির আল-করামা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
সিভিল ডিফেন্স এজেন্সি বুধবার জানায়, কমপ্লেক্সের তিনটি ভবন মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেখানকার বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে সংস্থাটি ফিলিস্তিনিদের ওই এলাকা থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে এবং আশেপাশে তাঁবুতে বসবাসরত বাস্তুচ্যুতদের নিরাপত্তার স্বার্থে অন্যত্র চলে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
গাজায় ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ
এদিকে ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইহুদিবাদী ইসরাইলের বর্বর হামলায় শহিদের সংখ্যা বেড়ে ৪৮ হাজার ৩৪৮ জনে দাঁড়িয়েছে।
ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে আরও বলেছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দখলদার ইসরাইলের বর্বর হামলায় শহিদের সংখ্যা বেড়ে ৪৮ হাজার ৩৪৮ জনে পৌঁছেছে। যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। একই সঙ্গে আহতের সংখ্যাও বেড়ে এক লাখ ১১ হাজার ৭৬১ জনে পৌঁছেছে।
গত ১৯ জানুয়ারি হামাস ও ইসরাইলের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি ও বন্দিবিনিময় চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর গাজায় ইসরাইলের হামলা বন্ধ হয়। এরপর থেকে দশ হাজারেরও বেশি বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ভবন ও ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়ির পাশে তাঁবু খাটিয়ে বসবাস শুরু করেন।
গাজার স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মাস ধরে চালানো আগ্রাসনে ইসরাইলি বাহিনী ২,০০,০০০-এর বেশি বাড়িঘর ধ্বংস করেছে এবং আরও ১,০০,০০০ বাড়ি গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ
ফিলিস্তিনিরা অভিযোগ করেছে, ইসরাইল যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করে এখনো গাজায় ত্রাণ প্রবেশে বাধা দিচ্ছে। এতে ২,০০,০০০ তাঁবু ও ৬০,০০০ ভাসমান বাড়ি-ঘরে প্রবেশে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে ইরানের বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরাইলি হামলায় দুই শহীদের দেহ গাজা উপত্যকার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। এর মধ্যে একজন শহিদের দেহ ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। অপরজন ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে শহিদ হয়েছেন। একই সময়ে দুজন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন।
গাজা উপত্যকায় ৪৭১ দিনের যুদ্ধ ও হত্যাযজ্ঞের সময় ইসরাইলি সেনাবাহিনী হামাসকে নির্মূল করার লক্ষ্য স্থির করেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রতিরোধের কাছে হার মেনেছে এবং যুদ্ধবিরতি চুক্তি সইয়ের মাধ্যমে পরাজয় মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে।
তীব্র ঠাণ্ডায় ৬ শিশুর মৃত্যু
গত কয়েক দিনে গাজা উপত্যকায় প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় ৬টি ফিলিস্তিনি শিশু মারা গেছে। বাসস্থান গরম করার সরঞ্জামের অভাবে এমনটি ঘটছে।
এ প্রসঙ্গে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস ঘোষণা করেছে, গাজায় প্রচণ্ড ঠাণ্ডা পড়েছে, কিন্তু বাসস্থান গরম রাখার ব্যবস্থা নেই। এ কারণে ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে, সেই সঙ্গে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বেশ কয়েকটি শিশুর অবস্থার অবনতি হয়েছে। দখলদার ইসরাইল গাজায় মানবিক সাহায্য এবং প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র প্রবেশে বাধা দেওয়ার কারণে এই পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না।
গাজার ৯০ শতাংশ বাড়িঘর ধ্বংস
দক্ষিণ গাজা উপত্যকার রাফাহ শহরের মেয়র আহমাদ আস-সুফিও এই শহরের সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে বলেছেন, ‘ইসরাইলি বাহিনীর অব্যাহত বিমান হামলার ফলে শহরের ৯০ শতাংশ বাড়ি সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে’।
ইসরাইলি ধ্বংসযজ্ঞের উদ্দেশ্য
জাতিসংঘে নিযুক্ত ফিলিস্তিনের স্থায়ী প্রতিনিধি রিয়াদ মানসুর এক বিবৃতিতে জোর দিয়ে বলেছেন, গাজা উপত্যকায় পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে ইসরাইল। তাদের লক্ষ্য গাজাকে বসবাসের অযোগ্য এলাকায় পরিণত করা।
পশ্চিম তীরে ইসরাইলি আগ্রাসনের তীব্রতা বৃদ্ধি
এদিকে ইসরাইলি সৈন্যরা পশ্চিম তীরের নাবলুস এবং আল-খলিল শহরের বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালিয়েছে এবং ফিলিস্তিনি যুবকদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষে হয়েছে। এই সংঘর্ষে একজন ফিলিস্তিনি শহিদ এবং ৩১ জন আহত হয়েছেন।
আল-আকসা শহিদ ব্রিগেড জানিয়েছে, এই সংঘর্ষে ফিলিস্তিনি যোদ্ধারা দখলদার ইসরাইলি বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। এর ফলে বেশ কয়েকজন দখলদার সেনা আহত হয়েছে।
আল-আকসা মসজিদে প্রবেশের নিন্দা
অন্যদিকে হামাস এক বিবৃতিতে পবিত্র রমজান মাসে আল-আকসা মসজিদে প্রবেশাধিকার সীমিত করার বিষয়ে দখলদার বাহিনীর পরিকল্পনার নিন্দা জানিয়েছে এবং এই পবিত্র স্থানে উপস্থিতি বৃদ্ধির জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।